শনিবারে পাপী মুক্ত হল দল - মিষ্টিমুখে উচ্ছ্বাসে মাতলেন তৃণমূলের কর্মীরা

19th December 2020 9:57 pm বর্ধমান
শনিবারে পাপী মুক্ত হল দল - মিষ্টিমুখে উচ্ছ্বাসে মাতলেন তৃণমূলের কর্মীরা


প্রদীপ চট্টোপাধ‍্যায় ( বর্ধমান ) :  সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটলো।শেষপর্যন্ত শনিবার বিজেপিতে যোগদান করলেন বাম, তৃণমূল ও কংগ্রেসের শিবিরের একাধীক বিধায়ক ,নেতা ও সাংসদ। রাজ্যের হেভিওয়েট 
নেতা শুভেন্দু অধিকারির হাতধরে এদিন মেদিনীপুরের সভায় বিজেপিতে যোগদান কারীদের মধ্যে রয়েছেন বর্ধমান পূর্বের তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল ,কালনার তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু ও মন্তেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক সৈকত পাঁজা । এছাড়াও জেলার গুসকরা পুরসভার বিদায়ী কাউন্সিলার নিত্যানন্দ  চট্টোপাধ্যায়ও এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন। দলত্যাগী এই সব বিধায়ক ও সাংসদের বিজেপিতে যাওয়াটাকে যদিও ‘পাপিদের ’ বিদায় বলে দাবি করে বর্ধমানের তৃণমূল কর্মীরা সবুজ আবির মেখে মুষ্টি মুখ করলেন ।  রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ঢাক এখনও বাজেনি ।তার আগেই বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা ।আর দামামা বাজার অনেক আগে থেকেই বেসুরো গাইতে শুরু করেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেসুরো গাইতে শুরে করেন তৃণমূলেরই একঝাক বিধায়ক ,সাংসদ ,  নেতা ও মন্ত্রী।তাঁদের মানভঞ্জন করতে বলিষ্ট
তৃণমূল নেতাদের আশরে নামানো হয় । কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি । সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডলের কাঁকসার বাড়িতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারেন শুভেন্দু । সেই বৈঠকে সুনীল মণ্ডল ছাড়াও আসানসোলের দাপুটে তৃণমূল নেতা  জীতেন্দ্র তেওয়ারী ,বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু ,পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদ সদস্য নুরুল হাসান , গুসকরা পৌরসভার বিদায়ী কাউন্সিলার নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যয় প্রমুখের হাজির থাকার ছবি ওইদিন ক্যামেরায় ধরা পড়ে । এদিন নুরুল হাসান ছাড়া জেলার বেসুরো গাওয়া দুই বিধায়ক বিশ্বজিৎ কণ্ডু ,শৈকত পাঁজা ও সাংসদ সুনীল মণ্ডল আনুষ্ঠানিক ভাবে  শুভেন্দু অধিকারির হাতধরে বিজেপিতে যোগদান করলেন ।   বিশ্বজিৎ কুণ্ডকে এদিন সকালে ফোন করা হলে তিনি বলেন ,“তৃণমূল ছেড়ে অন্য কোথাও যাবনা বলেই ঠিক করেছিলাম।কিন্ত শুক্রবারের ঘটনার পর তিনি বিজেপিতে যোগদেবার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ।“ কি সেই ঘটনা ? এর উত্তরে বিশ্বজিৎ বাবু বলেন , “শুক্রবার  আমি সৌগত রায়কে একবারের জন্যও ফোন করিনি । অথচ উনি বললেন আমি নাকি ওনাকে ফোন করেছি ।সৌগত বাবু সেই কথা আবার মিডিয়ায় প্রচারও করেদিলেন । একজন প্রবীন শিক্ষক ,নেতা ও তৃণমূল কংগ্রের দলের এই মিথ্যাচার মেনে নেওয়া যায়না । তাই শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে সকালেই  মেদিনীপুরের সভার দিকে রওনা দিয়েছি। ”
আর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদানের জন্য শুক্রবারই মেদিনীপুর পৌছে গিয়েছিলেন ।দুদিন আগেই যদিও অনুব্রত মণ্ডল কে ইঙ্গিত করে নিত্যানন্দ বাবু বলেছিলেন , “১৩ দিন তাঁকে জেল খাটানোর ঘটনায় জড়িতদের বদলা নিতেই তিনি শুভেন্দুর সাথেই বিজেপিতে যোগ দেবেন । ” ২০১৯ লোকসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন পরেশচন্দ্র দাস । তৃণমূল প্রার্থী সুনীল মণ্ডলের কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন । কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাক্তন আমলা (আইসিএএস )পরেশচন্দ্র দাস  এদিন বলেন ,“ ছোট ঘাসফুল এখন শুকুয়ে যাচ্ছে । তাই ঘাসফুলের সবাই এখন বড়ফুল পদ্ম শিবিরে যোগদান করছেন ।খুব ভালকথা শুভবুদ্ধি জাগ্রত হওয়ায় ওনারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন । তবে একটা কথা শুনিয়ে দিতে চাই , তৃণমূলে থাকা কালে যারা  দুস্কর্মে জড়িত ছিলেন সেইসব ত্যাগ করে চরিত্র সংশোধন করে বিজেপিতে আসতে হবে । পুরানো বিজেপি নেতা কর্মীদের দূরে সরিয়ে দিয়ে এইসব নবাগতরা সামনের চেয়ারে বসবেন সেটাও হবে না । ”পরেশ দাস এদিন বলেন , “শুধুমাত্র রায়না বিধানসভা থেকে সুনীল মণ্ডল ৫৪ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিলেন । তৃণমূলের গুণ্ডারা রিগিং করে এইভাবে মার্জিন বাড়িয়েছিল । তা নাহলে ২০১৯ সালেই বর্ধমান পূর্ব আসনে পদ্ম ফুটতো । ”পরেশবাবু এদিন দাবি করেন , ২০২১ বিধানসভা ভোটে বিজেপি এই রাজ্যে দু’শোর বেশী আসন পাবে । আর রায়নার বিজেপি প্রার্থী রেকর্ড ভোটে জয়ী হবেন ।  বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা পরেশচন্দ্র দাস এদিন  রায়নার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের দিকে যখন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন সেই সময়ে কালনার তৃণমূল নেতা কর্মীরা মিষ্টিমুখ করানো ও আবির খেলা শুরু করেদেন । এর কারণ হিসাবে কালনা ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায় বলেন , “শনিবারের বারবেলায় দল ‘পাপি’ মুক্ত হল । সেই কারণে তারা উল্লশিত । বিশ্বজিৎ কুণ্ডু সহ যারা এদিন বিজেপিতে গেলেন তারা দল বিরোধী কাজে যুক্ত ছিল । তৃণমূল কংগ্রেস দল যে তাঁদের আর প্রার্থী করবে না সেটা বুঝতে পেরেই ওই ‘পাপিরা ’ বিজেপিতে যোগদান করেছে । ”বিশ্বজিৎ কুণ্ডুর কুশপুতুলও এদিন দাহ করেন কালনার তৃণমূল যুবকর্মীরা । জেলা তৃণমূলের সভাপতি স্বপন দেবনাথ দলত্যাগী সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চান নি । স্বপন বাবু শুধু বলেন ,“উনি যা বলছেন বলুন । প্রতিক্রিয়া দিয়ে ওকে গুরুত্ব দিতে চাইনা । 





Others News

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) : প্রায় এক বছর আগে আবেদন করেও মেয়ের জাতিগত শংসাপত্র মেলেনি । আবেদনকারীদের জাতি শংসাপত্র দেওয়ার
ক্ষেত্রে দেরি করা যাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে।প্রায় এক বছর আগে  চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে  আবেদন করেছিলেন মা।কিন্তু মেয়ে কে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসলেও জাতি  শংসাপত্র আজও না মেলায় কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির রাধাকান্তপুর নিবাসী ঊর্মিলা দাস।ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য ঊর্মিলাদেবী বৃহস্পতি বার মেমারি ১ ব্লক বিডিও অফিসে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন। শংসাপত্র পাবার জন্য বিডিও সাহেব কি ব্যবস্থা করেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে ঊর্মিলাদেবী। 

বিডিওকে লিখিত আবেদনে ঊর্মিলাদেবী জানিয়েছেন ,তাঁর স্বামী মানিক দাস দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ।বছর ১০ বয়সী তাঁদের একমাত্র কন্যা গ্রামের বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত কালে তাঁর ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী আবেদন করেছিলেন।  উর্মিলাদেবী বলেন ,তার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে  গেলেও তিনি তাঁর মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পান না।মেয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসায় গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তিনি শংসাপত্রের বিষয়ে মেমারি ১ ব্লকের বিডিও অফিসে খোঁজ নিতে যান।জাতি শংসাপত্র বিষয়ের বায়িত্বে থাকা বিডিও অফিসের আধিকারিক তাঁকে অনলাইনে এই সংক্রান্ত একটি নথি বের করে আনতে বলেন । অনলাইনে সেই নথি বের করেনিয়ে তিনি ফের ওই আধিকারিকের কাছে যান । তা দেখার পর ওই আধিকারিক তাঁকে  ২০ দিন বাদে আসতে বলেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন , তিনি ২৫ দিন বাদে যাবার পর ওই আধিকারিক তাঁকে গোপগন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে খোঁজ নেবার কথা বলেন । তিনি এরপর গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যান । নথি ঘেঁটে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে কোন ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি।ঊর্মিলাদেবী দাবী করেন ,এই ভাবে তিনি একবার বিডিও অফিস , আবার পঞ্চায়েত অফিসে দরবার করে চলেন । কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না। মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য  গত ১৩ ডিসেম্বর ফের তিনি বিডিও অফিসে যান ।ওই দিনও বিডিও অফিসের জাতি শংসাপত্র বিষয়ক বিভাগের আধিকারিক তাঁকে একই ভাবে পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যেতে বলে দায় সারেন। পরদিন তিনি পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে গেলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ফের জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে  ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি । কেন মেয়ের জাতি শংসাপত্র পাচ্ছেন না সেই বিষয়ে  না পঞ্চায়েত না ব্লক প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ কেউই তাঁকে কিছু জানাতে পারেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন ,পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির আগে তার মেয়ে যাতে ওবিসি শংসাপত্র পেয়ে যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য এদিন তিনি বিডিওর কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন । মেমারী ১ ব্লকের বিডিও আলী মহম্মদ ওলি উল্লাহ এদিন বলেন ,“জাতি শংসাপত্র পাবার জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে । তবে ঊর্মিলাদেবীর কন্যা দ্রুত যাতে বিবিসি শংসাপত্র দ্রুথ পান সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে “। মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্য বলেন,’মেমারি  বিধানসভা এলাকার আবেদনকারীরা দ্রুত যাতে জাতি শংসাপত্র পান সেই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলবো’।